মেনু নির্বাচন করুন

শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা

 

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শোরেশ্বরী কালী মন্দির বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত মন্দির। এ শক্তিপীঠটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত।[১] যশোরেশ্বরী নামের অর্থ "যশোরের দেবী"। হিন্দু ভক্তদের জন্য এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান।

গুরুত্ব

সত্য যুগে দক্ষ যজ্ঞের পর সতী মাতা দেহ ত্যাগ করলে মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করলে বিষ্ণু দেব সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর মৃতদেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহখন্ডসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত হয় এবং এ সকল স্থানসমূহ শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়।[২]

ইতিহাস

ধারনা করা হয় যে, মন্দিরটি আনারি নামের এক ব্রাহ্মণ কতৃক নির্মিত হয়। তিনি এই যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠের ১০০টি দরজা নির্মাণ করেন। কিন্তু মন্দিরটি কখন নির্মিত হয় তা জানা যায়নি। পরবর্তীকালে লক্ষ্মণ সেন ও প্রতাপাদিত্য কর্তৃক তাদের রাজত্বকালে এটির সংস্কার করা হয়েছিল।

 

 

নকিপুর জমিদার বাড়ী
মিনা জিন্নাত আলী (২৯-১০-০৬)
এই তো এই সেই শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর।
একদিন এখানে ইতিহাস-ঐতিহ্য ছিল ভরপুর,
তাইতো লাগত সুমধুর।
এখানে ছিলেন এক জমিদার
রায় বাহাদুর হরিচরণ চৌধুরী নাম তার।
জননীর নাম তার ছিল নিস্তারিনী
ছিলেন তিনি অতি ভাগ্যবতী।
স্বপ্ন যোগে পেতেন সম্পদ,
এই নিয়ে এখনো আছে প্রবাদ।
খুলে দেখি খতিয়ান,
পরগনার নাম তার ছিল সুন্দরবন।
বিষয় সম্পত্তির পরিমাণ,
ছিল দুই লক্ষ একর।
আদায় করতে এই সমস্ত জমির কর খাজনা,
ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ থানা আর কালিগঞ্জ-শ্যামনগর
উপজেলার সাতশটি কাছারীতে থাকতেন নায়েব-গোমস্তা।
ছিলেন তিনি প্রজা দরদী,
ছিলেন না নির্যাতক, অত্যাচারী
এই কথা সবার মুখে শুনি।
এল ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ,
থেমে গেল তার জীবনের সব সুর আর ছন্দ।
তারপর
তাঁর জমিদারীর ভার,
পড়লো দু’পুত্রের উপর।
যথা-বঢ় তরফ, রায় সতীন্দ্র
আর ছোট তরফ, রায় যতীন্দ্র।
এভাবে বজায় রেখে জমিদার বংশের আভিজাত্য,
ইংরেজী ১৯৩৭ ও ১৯৪৯ সনে
মারা গেলেন রায় সতীন্দ্র ও রায় যতীন্দ্র।
এরপর এলো ১৯৫০ সন,
জমিদারী প্রথার হলো অবসান।
তখন জমিদার বংশধর,
রেখে তাদের গগনভেদি বাড়ীঘর।
ভারতে তারা হলেন পার।
সেখানে কলকাতা আর টালিগঞ্জে,
আছেন তারা সুখ স্বাচ্ছন্দে|
প্রাগৈতিহাসিক জমিদার বাড়ীর সামনে
ছেলেরা আজ যেখানে খেলা করে
আর মুসলিমরা ঈদের নামাজ পড়েন
সেখানে একদিন সারিবদ্ধভাবে ছিল ভরা
ধানের গোলা আর ঘোড়া শালা।
মন্দিরে হতো বারো মাসে তেরো পূজা
আর হতো কত গান বাজনা।
মাঝে মধ্যে চাকররা এসে
নহবতখানার উপরে বসে
বাজাত ঢোল, কাশি, বাঁশি
এতে জনমনে ফুটতো আনন্দের হাসি।
এই বাড়ির ধার ভার ছিল এতো অধিক,
জুতা পায়, ছাতা মাথায় বাড়ির সামনে হাটিত না কোন পথিক।
কালের কামড়ে আর স্বাথন্বেষীদের শক্ত হাতের আঘাতে ভেঙ্গে চুরে
এই বাড়ীর ইট কাঠ মাঝে মাঝে হয় লুটপাট।
কিন্তু কেউতো বাড়ায়না সংরক্ষণের হাত।
ভাঙ্গা সিঁড়ি, ধ্বসে পড়া দেয়াল
আর জরাজীর্ণ ভবন-
তাদের গায়ের পরগাছাদের জড়িয়ে ধরে
বিলুপ্তির আগে যেন দিচ্ছে শেষ স্নেহ চুম্বন|
মেঝেতে ময়লা, দূর্গন্ধে ভরা
প্রকৃতির ডাকে কিছু দরিদ্র মানুষেরা
এখানে দেয় সাড়া।
এ বাড়ীর চারিদিকে ফাঁকা,
থাকেনা কেহ আর-
শূন্যতা যেন পূর্ণ করেছে সারা বাড়ীঘর।


Share with :

Facebook Twitter