মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সম্মুখ সমরের ইতিহাস

 

শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর স্মৃতি সৌধের ইতিহাস

 

       ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শ্যামনগরবাসীর ভূমিকা ছিল অসাধারণ। সহশ্রাধিক, ছাত্র ,শিক্ষক ,বুদ্ধিজীবি, কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ স্বতস্ফুর্ত ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল । মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে জয়ের ঘটনা যেমন অগনিত, তেমনি সম্মুখ সমরে যুদ্ধর ঘটনাও কম নয় । সে রকম একটি সম্মুখ সমরে যুদ্ধর ঘটনা ঘটে শ্যামনগর সদরে গোপালপুর গ্রামে। এখানে মুক্তি পাগল অকুতভয় সাহসী চার মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন । ১৯৭১ সালের ১৯ আগষ্ট দিবাগত রাত ২০ আগষ্ট বাংলা ১৩৭৮ সালের ৫ ভাদ্র রাত্র ০৩ ঘটিকার সময় রোজ শুক্রবার ভোরে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে উপজেলা সদরে গোপালপুরে সম্মুখ সমরে  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ হয় । এ যুদ্ধে শহীদ হয় মরহুম মেজর (অবঃ) জলিলের নেতৃত্বে গড়া ৯ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার ইলিয়াস খান ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, কালিগঞ্জ থানার বাগমারি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরম্নল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (পরে জানা যায় তিনি ছাত্র নয়) মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অজ্ঞাত এক মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়াও ০৪  জন বে-সামরিক ব্যক্তি  পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে শহীদ হন। যারা ছিলেন অববাস আলী গাজী, নেতাই দাস সহ নাম না জানা ০২ জন কৃষক ।

 

      শ্যামনগর উপজেলা ভুরম্নলিয়া গ্রামের মৃত নছিমুদ্দীন গাইনের পুত্র মেহেরম্নলস্নাহ গাইন সম্মুখ সমরে যুদ্ধের পরের দিন শুক্রবার স্থানীয় গ্রাম বাসীদের  সহযোগিতায় সম্মুখ সমরে রণক্ষেত্রে শহীদ চার মুক্তিযোদ্ধার লাশ এই স্মৃতি সৌধের অনতিদুরে ধান ক্ষেতের পাশে আইলে সমাহিত করেন এবং একজনকে বর্তমান থানার পাশে পুকুরের পুর্ব উত্তর কর্নারে কালিগঞ্জ থানার বাগমারি গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরম্নল ইসলামের সমাহিত করা হয়। যা আজও সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জনাব সুবেদার ইলিয়াসের পিতা কুষ্টিয়ার জনাব মোবারক আলী খান সমত্মানের  সন্ধানে শ্যামনগরে আসেন  এবং জনাব মেহেরম্নলস্নাহ গাইনের বাড়িতে যান। সেখানে জনাব মেহেরম্নলস্না গাইনের নিকট হতে সব শুনে এবং সমত্মানের কবরের ছবি দেখে সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কবর পর্যমত্ম আর আসতে পারেননি। শোকে মুহ্যমান হয়ে তিন দিন পরে জনাব মেহেরম্নলস্না গাইনের বাড়িতেই ইমেত্মকাল করেন। জনাব মেহেরম্নল্রা গাইন জনাব মোবারক আলীকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় পুত্রের কবরের পাশে মরহুমের ইচ্ছা অনুযায়ি সমাহিত করা হয় । ভুরম্নলিয়া গ্রামের জনাব মেহেরম্নলস্নাহ গাইনের নিজ উদ্যোগে এলাকা বাসীর সহযোগিতায় ১৯৭২ সালে জানুয়ারী মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশে গোপালপুরে সেই রণক্ষেত্রে একটি শহীদ মিনার নির্মান শুরম্ন করেন এবং মে মাসে নির্মান কাজ শেষ করেন। এ স্মৃতি সত্মম্ভটি কালক্রমে একবারেই জেলা পরিষদের সড়কের  উপরে এসে পড়ায় বিশেষ বিশেষ দিনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে খুবই অসুবিধা হচ্ছিল। দিনে দিনে সড়কটি প্রশন্থ হওয়ায় এ স্মৃতি সত্মম্ভের সামনে দাড়াবার সুযোগ সুবিধা না থাকায় এবং সত্মম্ভটি  বয়সের ভারে ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়ে।

 

       সেই ৭২ সাল থেকে ২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যমত্ম ২২ ফুট উচ্চতার সেই স্মৃতি স্থম্ভটি দন্ডায়মান ছিল। বর্তমানে জুলাই মাসে শ্যামনগর উপজেলার বর্তমান নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ দৌলতুজ্জামান খাঁন এর উদ্যেগে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এইচ এম গোলাম রেজা এঁর অনুপ্রেরণা এবং জনাব মোঃ খলিলুল্যাহ ঝড়ু এর সার্বিক সহায়তা এবং জনাব এ, কে ফজলুল হক, এমসিএ ও প্রাক্তন মাননীয় সংসদ সদস্য, কমান্ডার জনাব দেবী রঞ্জন, ডেপুটি কমান্ডার জনাব মোঃ শাহাদত হোসেন সহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ পরামর্শসহ সার্বিক সহায়তা করেছেন।  সাতÿীরা ঐ একই স্থানে জাতীয় স্মৃতি সৌধের আদলে একটি নতুন স্মৃতি সৌধ নির্মান কাজ করা হয় এবং বিগত ১৪ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ সাতÿীরা জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার উদ্বোধন করেন উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আসাদুজ্জামন, পুলিশ সুপার, সাতÿীরা, জনাব এ, কে ফজলুল হক, এমসিএ ও প্রাক্তন মাননীয় সংসদ সদস্য, কমান্ডার জনাব দেবী রঞ্জন, ডেপুটি কমান্ডার জনাব মোঃ শাহাদত হোসেন সহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মোঃ ইলিয়াসের কন্যা বেগম সেলিনা, ডেপুটি ডাইরেক্টর, দুর্নীতি দমন কমিশন উপস্থিত ছিলেন।

 

নোট    ঃ

একজন অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় বিবরণী :      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অজ্ঞাত (কাল্পনিক) এক মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে জনাব মেহেরম্নলস্না গাইন জানান এই ব্যাক্তিটি একজন সুন্দর ও সুদর্শন যুবক ছিলেন। যার বুক ভরা ছিল কালো লোমে। গায়ে দামি ফৌজি পোশাক ছিল। পকেটে ভারতীয় ১০ টাকার দুটি নোট ছিল। কপালে একটি বুলেট বিদ্ধ ছিল। অন্য কোন আঘাত বা বিশেষ চিহ্ন পাওয়া যায়নি মর্মেও জানান।

 

শহীদদের কবর সংরক্ষন সংক্রান্ত

 

     ১৯৭১ সালের ১৯ আগষ্ট দিবাগত রাত ২০ আগষ্ট বাংলা ১৩৭৮ সালের ৫ ভাদ্র রাত্র ০৩ ঘটিকার সময় রোজ শুক্রবার ভোরে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে উপজেলা সদরে গোপালপুরে সম্মুখ সমরে  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ হয় । এ যুদ্ধে শহীদ হয় মরহুম মেজর (অবঃ) জলিলের নেতৃত্বে গড়া ৯ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার ইলিয়াস খান ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, কালিগঞ্জ থানার বাগমারি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরম্নল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (পরে জানা যায় তিনি ছাত্র নয়) মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অজ্ঞাত এক মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়াও ০৪  জন বে-সামরিক ব্যক্তি  পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে শহীদ হন। যারা ছিলেন অববাস আলী গাজী, নেতাই দাস সহ নাম না জানা ০২ জন কৃষক ।

 

     বর্তমানে সম্মুখ সমরে যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন তাদেও মধ্যে ৪ জন শহীদের সমাধী শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে ২০ আগষ্ট জুম্মার নামাজের পর শ্যামনগর উপজেলা ভুরম্নলিয়া গ্রামের মৃত নছিমুদ্দীন গাইনের পুত্র মেহেরম্নলস্নাহ গাইন সম্মুখ সমরে যুদ্ধের পরের দিন শুক্রবার স্থানীয় গ্রাম বাসীদের  সহযোগিতায় সম্মুখ সমরে রণক্ষেত্রে শহীদ চার মুক্তিযোদ্ধার লাশ এই স্মৃতি সৌধের অনতিদুরে ধান ক্ষেতের পাশে আইলে সমাহিত করেন। দির্ঘ্যদিন অবহেলিত থাকার পর ২০০৬ সালে জনাব মোঃ খলিলুল্যাহ ঝড়ু এর আর্থিক সহায়তায় শহীদদের সমাধীস্থলগুলো সংরÿনের জন্য বাধাঁয় করা হয়। যাহা বর্তমানে এ অবস্থায় আছে এবং প্রতিবছর জাতীয় দিবসে সমাধীস্থলগুলো সংরÿনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

     বর্তমানে সমাধীস্থলের কবর সংরÿনের জন্য শ্যামনগর উপজেলায় শ্যামনগর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতি সংরÿন ট্রাষ্ট নামে একটি প্রতিষ্টান গঠন করা হয়েছে। উক্ত ট্রাষ্টের মাধ্যমে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ ইলিয়াস এর সুযোগ্য কন্যা বেগম সেলিনা আক্তার, ডেপুটি ডাইরেক্টও, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জনাব মোঃ খলিুল্যাহ ঝড়ু এর সার্বিক সহায়তায় শহীদদেও কবর সংরÿণের জন্য এবং একটি যাদুঘর ও একটি শহীদ স্মৃতি পাঠাগার তৈরীর জন্য স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যে ২৩.৭৫ শতক জমি ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। আরো প্রায় ১০০ শতক বা এক একর জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া রয়েছে। এজন্য স্থানীয় অনুদান এর সাথে দেশী বিদেশী ব্যাক্তিদের নিকট হতে অনুদান সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।


Share with :
Facebook Twitter